সার্চ করুন

সোমবার, ২ অক্টোবর, ২০১৭

ভিন্ন দেয়াল

খণ্ড অস্তিত্ব মেয়াদ হারানোর বিষাদে কাতরায়
ণিপাত বরণের দিন এগিয়ে আসে সম্মুখে!
তবুও মানব বাঁচে কিছু পাবার উমেদে
উদ্বিগ্ন মায়াবী বিবর্ণ বসুন্ধরার বুক থেকে।
অন্তর থেকে যেন মুছে ফেলেছে ভালবাসা
তাইতো প্রলয়কে তুচ্ছ ভাবে নব প্রজন্ম!
অসূয়ার দহনে তৈরি হয়েছে ভিন্ন দেয়াল
প্রত্যহ কী যেন খুঁজে ফিরে ওরা মহীতলে।
অবিন্যস্ত সংকল্প উত্তুঙ্গ বারীশের লহর ভেঙে
যেতে চায় বিশারদ থেকে বিশারদ কুঞ্জে,
নিথর সুধীর প্রকৃতির উপর করে প্রহার
অবশেষে সৃষ্টি হয় এক দুর্দান্ত ভূ-কম্পন!
মিথ্যের আড়ালে লুকিয়ে ওরা করে গেঁড়াকল
বিদীর্ণ করে সততার তৈরি করা প্রাচীর!
আগামী প্রভাতের নেশায় হয়ে ওঠে উন্মাদ
তবু রঙিন শিখী যেন মেলেনা পেখম।
ওদের পীড়নে যখন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে সভ্যতা
তখন আর্তির মাঝেও খোঁজে শান্তির লেশ,
নিরাধার মানব নিঃশ্ব হয়ে করে আত্মহনন
তবুও ওদের প্রতিকূলে করেনা কখনো প্রতিবাদ।
আধুনিক সংঘ অসতীত্বের দেওয়া সূক্ষ্ম ক্বেশে
আপন চিত্তের সাথে করে নিস্ফল আন্দোলন!
ওরা বলে পারবেনা কেউ ভেদ করতে
নিন্দিত শিলা দিয়ে গড়া ভিন্ন দেয়াল।


রচনাকালঃ- ১২/০৯/২০১৭

সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

প্রেমের প্রতীক্ষা

অধীর নেত্রে চেয়ে থাকি পথের পানে তুমি আসবে
সহস্র লাল গোলাপের সম্বর্ধনা দিয়ে করবো বরণ,
তোমার প্রতীক্ষায় কাটিয়েছি ঘুমহীন কত রজনী
মিথ্যে রঙিন স্বপ্ন দেখার নেশায় ছিলাম বিভোর।
বৈশাখীর কালো অম্বুদে এঁদোমগ্ন হলো দশ দিগন্ত
হৃদয়ের মাঝে ফুটলো নিঃসঙ্গ অসু'র বিকট চিত্র!
তোমার ভাগ্যরেখায় ফুটেছে নিত্য বসন্তের কৃষ্ণচূড়া
আমার দ্যুলকে জমেছে বিষাক্ত জলদের ঘনঘটা!
তবুও বিশ্বাস তুমি ফিরবে বৃষ্টিসিক্ত হয়ে শূন্য অঙ্গনে
সুখের বর্ষণে প্লাবিত হবে চিত্তের শুষ্ক জমি,
শ্রাবণ বৃষ্টির প্রত্যাশায় বিবর্ণ হলুদ ফুলের পাপড়ি
বিষন্ন মনে করছি তোমার নিষ্ঠুর প্রেমের প্রতীক্ষা!


রচনাকালঃ- ০৭/০৯/২০১৭

শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা

ভারতবর্যের অন্তর্গত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ
সেখানে অবাধে গড়ে তুলছে হিংসা-দ্বেষ!
একদিকে করছে ইশ্বরের নাটকীয় বন্দনা
শান্তি ভঙ্গ করে দিচ্ছে প্রজাকে সান্তনা।
জনসভায় দিচ্ছে তারা মিথ্যে ভাষণ
মুসলিমদের মেরে করবে দেশ শাসন,
অত্যাচারে পীড়িত জাতি হচ্ছে দুর্বল
অসহায়কে প্রহার করে দেখাচ্ছে বাহুবল!
তোমাদের করছি প্রশ্ন ও ভারতীয় পার্টি
বলতেপার তোমরা মানুষ হিসেবে খাঁটি?
মুসলিম হয়ে জন্মেছি দাও কেন ধিক্কার
কবে পাব আমরা বাঁচার অধিকার।
দাঙ্গা লাগিয়ে করছো দেশের ক্ষতি
নেতা-মন্ত্রী আবার তাতে দিচ্ছে সম্মতি,
হিন্দু ধর্ম দাহ করে গঙ্গামুখী শ্মশানে
ইসলাম ধর্ম কবরে দাফন করে সসম্মানে।
জায়গার অভাবে দেওয়া যাবে না কবর
শ্মশানে দাহ করতে হবে অক্ষের খবর,
হিন্দু মুসলমান সোমান অধিকার পাবে
কবরের জন্য জাতিকে জায়গা দিতে হবে!
রক্তের হুলি খেলছে আযব এক যন্ত্রণা
জাতির মধ্যে বিভেদ গড়ে দিচ্ছে কুমন্ত্রণা,
দুর্নীতির জাল আর বুনবে কতকাল
হিন্দু মুসলিম একসঙ্গে মেলাব তাল।
অপকর্মের বিরুদ্ধে করবো তীব্র প্রতিবাদ
শান্তি ফিরে আনবো থাকবে না বিবাদ,
সরকার গড়ছে সৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা
তাদের কারণে মুসলিম জাতির দুরবস্থা!


রচনাকালঃ- ০৪/০৯/২০১৭

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বর্ষা

বর্ষার পরশে মন নাচে আনন্দে
শীতল হয় প্রকৃতি বৃষ্টির ছন্দে,
হিমেল পবনে চিত্তে জাগে শিহরণ
শুনি বর্ষার অপরূপ সুরের কম্পন।
মেঘলা দিনে আদ্র ভাসে বাতাসে
অর্ণবে ফাঁপে নীর রংধনু আকাশে,
অবিরত বর্ষণে ব্যাকুল হয় প্রাণ
প্রকৃতি ভেজা ক্ষণে দোয়েলের গান।
নীরদে ঢাকে শশী নিলিমার ভেতর
অনিলের স্পর্শে ভরে যাই অন্তর,
বারিধারা নভ আর ধীর প্রকৃতি
অঝরে ঝরা বর্ষার রম্য আকৃতি।
ছলছল শব্দ করে আপগার কলতান
বৃষ্টির ধারা নিয়ে আসে বান,
সবুজ বিপিণের পথ চলছে বেঁকে
অনুপম দৃশ্য দেখি দূর থেকে।


রচনাকালঃ- ২৮/০৮/২০১৭

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বিরহ

ব্যাকুল হৃদয় ভাবনায় মগ্ন
ফিরে দেখলো না কেউ,
প্রেমে বিভোর হয়েছে মন
অন্তরে বহে বেদনার ঢেউ!
দিশাহীন ভূমির মুক্ত অঙ্গনে
খুঁজি না পাওয়া প্রেমের ঠিকানা,
মায়াবী ছলনায় হারিয়ে যাই
বেড়ে ওঠে দিলের যাতনা!
প্রেয়সী যেন হয়েছে পাষাণ
আমার রোদনে আরশ কাঁপে!
সে পথে আছে শুধুই কাটা
আঘাত দেয় প্রতি ধাপে।
চিত্তে কথা জমে থাকে
শোনাবার মানুষ কোথায় পাই,
জ্বলছে বুকে বিরহের অনল
এবার প্রেয়সীর সন্ধান চাই।


রচনাকালঃ- ২৫/০৮/২০১৭

বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ডাকবাবু

অটল চরিতে করি সংগ্রাম
ছুটি চলনে নেই আরাম,
নিপট চলচিত্র অতিশয় দুরূহ
থাকুক না সে যতই বিরহ!
কত শহর কত নগর
দূর্লব মার্গে চলি দ্বিপ্রহর,
গ্রথনের বিরতি নেই তবু
আমি এক ডাকবাবু।

পিঠের উর্ধ্বে লিপির বস্তা
অতি মূল্যের নইতো শস্তা,
গহ্বরে থাকে খোঁয়াড় গোজা
আরম্ভ করি ব্যক্তিকে খোঁজা।
পত্রের মাঝে লুকিয়ে খবর
পুলক আর ব্যসন জবর!
কষ্টের অস্তিত্ব যেন জবুখবু
আমি এক ডাকবাবু।

যাই শহর থেকে গ্রাম
বর্ত্মের দুপাশে দেখি আমজাম,
সবার আগলে নাড়ি কড়া
চিঠি না দিয়ে হয় না নড়া।
করিয়ে নিই তাদের সাক্ষর
অতশত বুঝি না আমি নিরক্ষর,
দুপুরের বিশ্রাম টাঙিয়ে তাঁবু
আমি এক ডাকবাবু।

অবসন্ন গতরে ফিরি সদনে
কল্মষ লেগে থাকে বদনে,
নিশির ঘোরে জেগে থাকি
সুপ্তি দিয়ে যাই ফাঁকি!
মৃত্তিকার কুটিরে জ্বলে হ্যারিকেন
বিনিদ্র নক্তে বাজে সাইরেন,
বিষাদের তুফান হয় না কাবু
আমি এক ডাকবাবু।


রচনাকালঃ- ২২/০৮/২০১৭

মানবের ছদ্মবেশ

নিশি ঘনিয়ে এসেছে ত্রাসের চাদর মুড়িয়ে!
জাজী ঘেরা পলিময় উর্বর ক্ষিতির দেশে।
জীবনচক্র ধরে রাখতে উন্মেষ নেয় উর্বীরূহ,
ক্ষুধার দহনে কাতর হয়েছে আপন স্বদেশ!
আমি পতগের রূপে জন্মেছি মানবের ছদ্মবেশে,
বিকৃত জঞ্জলে ভরা দূষিত সভ্যতার মাঝে।

বহুবার উর্বী তচনচ হয়েছে প্রকৃতির প্রলয়ে,
তবুও আমি একেবারে লুপ্ত হয়ে যাইনি।
প্রতিটি প্রহরে সংগ্রাম করেছি পিশাচের তরে!
ফুটপাতের নিয়ন কিরণে কেটেছে কত রাত্রি,
আমি নিবিষ্ট হয়েছি অসৎ জনতার ভিড়ে!
উগ্র পশুর বন্ধনী মেরেছে বক্ষে ছোবল!

বিলাপ মর্তে বিষাদের চিত্র ভাসে নয়নে!
কোথাও খুঁজে পাই না একটু বাঁচার আস্থানা।
শত ক্লেশ চিত্তে নিয়ে কেটেছে পরমায়ু!
লাথি-গুঁতা খেয়ে লাঞ্ছিত হয়েছি নিরন্তর!
এভাবে কতকাল ধরে রাখবো আমার অস্তিত্ব?
এই নিকরুণ অবিনয়ী কিছু প্রজার মাঝে।



রচনাকালঃ- ১৯/০৮/২০১৭