সার্চ করুন

মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৮

যুদ্ধ নয় শান্তি চায়


বিশ্বে জঙ্গী গষ্ঠি হলো ঙআই-এস
মানব মেরে করে সর্বশেষ,
জলে ডুবিয়ে আগুনে পুড়িয়ে
দেয় তরবারির আঘাতে ধূলোয় গুড়িয়ে!
সন্ত্রাসে গড়ে তুলে বিভেদ
আবার কখনো করে শিরশ্ছেদ!
অসহায় প্রজা নিরবে গুলি খায়
ঐ অত্যাচারীদের নরকেও হবেনা ঠায়!
ধরণীর বুকে জঙ্গী গষ্ঠির দল
মুখোশের আড়ালে দেখায় বাহুবল,
বড় শহরে ফেলে বোমা
শবের স্তুপ করে জমা।
আহা তারাতো কেউ মুসলিম নয়
একদিন হবে দানবের পরাজয়,
ইসলাম কখনো চায় না অশান্তি
এই ধর্মে আছে শুধু শান্তি।
টুপি-দাড়ি থাকলেই মুসলিম হওয়া যায়?
আজ নরপশু বিবাদের গান গায়,
দেশের মাটিতে ষড়যন্ত্র করে সন্ত্রাসবাদী
সদা কুমন্ত্রণা দেয় ঐ মিথ্যাবাদী।
সঠিক তথ্য চেপে গড়ে বিভ্রান্ত
দাঙ্গার কারণে দেশ অশান্ত,
প্রকাশ্য দিবালোকে করে অপকর্ম
শয়তানের দল মানেনা ধর্ম!
পৃথিবীর জমিন হয় রক্তে লাল
ঐ সন্ত্রাসবাদী পেতে রাখে জাল,
হে যুব সমাজ ভাঙ্গতে বাহুবল জঙ্গীদের
আমি আহ্বান জানায় তোদের।
যদি প্রাণ যায় যাক
আজ দিচ্ছি বিদ্রোহের ডাক!
সন্ত্রাস মুক্ত করতে এগিয়ে আয়
আমরা যুদ্ধ নয় শান্তি চায়।


রচনাকালঃ- ০৬/১১/২০১৮

শুক্রবার, ২ নভেম্বর, ২০১৮

খুঁজি প্রকৃটির বহুরূপ

অঘ্রায়ণের আগমনে,
দেখলাম গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতা;
সবুজ ঘাসের ওপর শিশিরের আবরণ
বলে অঘ্রায়ণ এল পৃথিবীর বনে;
ঝরে পড়া হলুদ পাতা দেখে মনে হলো
ঘাসের ওপর যেন কেউ বিছানা পেতেছে।

সূর্য ডুবে গেল,
সন্ধ্যাকাশের লাল বর্ণের ঝলক-
পড়লো পুকুরের জলের ওপর;
ধীরে-ধীরে আঁধার নেমে এল পৃথিবীতে।
বন-জঙ্গলের মুখে যেন স্তব্ধতা!
পথে হাঁটলাম তবু পাখিদের দেখা মেলেনা
তারা হয়তো হারিয়ে গেছে কুয়াশার ঘোরে,
পথে কিছু বাদুড়ের দেখা পেলাম
রাতের শীতল বাতাস এসে বিধছে বুকে।

ঐ দূরে,
সোনালী ধানক্ষেতের অপারে-
দেখতে পেলাম কিছু পাখিদের বাসা;
জামের ডালে ক্লান্তির আবরণ মেখে
তারা সব একত্রে বিশ্রামে মগ্ন হয়ে আছে।
ঘাস ফুলের পাপড়ী রঙ্গিন প্রজাপতির
হৃদয়ের মতো যেন নীরবতা ভর করছে!
তবু আমি হাঁটলাম ঐ সবুজ প্রান্তরের দিকে।

মাঠের ধারে,
অনেকগুলো ঝরা ফল পড়ে আছে;
ঝোপ-ঝাড়ের পাতাগুলো মাঝে-মাঝে-
বাতাসের স্পর্শ পেয়ে নড়ে চড়ে উঠছে।
চাঁদের মুক্ত আলোয় ঐ সোনালী ধানের
শীষ প্রতিক্ষণে খেলা করছে
সে কি এক অপরূপ দৃশ্য!
কীট-পতঙ্গ অপেক্ষায় মগ্ন সূর্যদয়ের।

অফুরন্ত সময়,
যেন কোন শেষ নেই তার!
যেন এক অবাধ আকাশ;
সবুজ বৃক্ষ নিজ বিকাশে নীরব হয়ে আছে।


রচনাকালঃ- ০২/১১/২০১৮

মঙ্গলবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৮

আঁখিজল


বিরহে কাতর হৃদয় করে টল-মল,
কি করে লুকাব মোর আঁখিজল!

দিনে কাঁদে পাখি রাতে কাঁদে ফুল
শোনেনা বারণ উচলিয়ে ওঠে দুকুল,
আজ ভরডুবি শ্রাবণের অথই জলে
মোর ললাট রেখা রয়ে গেল বিফলে!

ভাঙ্গা মনের দ্বারে পোড়া এ আঁখি
নিষেধ মানেনা বারংবার দেয় ফাঁকি,
নোনা বারি আর লুকাব কতকাল
কেঁদে-কেঁদে নয়নে পড়েছে মায়াজাল!

ছলনা করে হাসে দহনে ঝলসানো মন,
দুঃস্বপ্ন দেখে উড়ে যায় নিশিথের শয়ন!


রচনাকালঃ- ৩০/১০/২০১৮

শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৮

চাঁদনী রাতে


চাঁদনী রাতে কাঁদে চাঁদমুখ,
হারিয়ে প্রেয়সী যেন চির-সুখ!

একলা জেগে কাটে কতো রজনী
উতলা বিধুর প্রতিক্ষিত হরিণী,
কে ডাকে তাকে প্রেমিক উন্মাদে
গোপনে সরোজিণী লুকিয়ে কাঁদে!

কতো নিশি জেগে কাটায় সজনী
কাঁদে তার মন কাঁপে অবনী!
বিরহের তরী আঁখি-জলে ভেসে যায়
অরণ্যে তরু-লতার ছায়া ভয় পাই।

কাঁদে প্রতিক্ষণে গগনের ইন্দু
প্রতি পলকে ঝরে পড়ে সহস্র বিন্দু!
জলদে ঢেকে হয় অম্বর অবশ
শিকলে জড়িয়ে বিহঙ্গিণী বিবশ।


রচনাকালঃ- ২৬/১০/২০১৮

বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮

থমকে দাঁড়ায়


থমকে দাঁড়ায় আমি গভীর বনে
কে হেঁটে যায় একলা আনমনে,
নূপুরের ছম-ছম শব্দ শুনতে পাই।

নীল সাড়ির ঘন আঁচল
বন-লতায় জড়িয়ে খায় দোল,
মাতাল পবনের পরশ পেয়ে
কুন্তল যায় দোল খেয়ে।
নূপুরের ছম-ছম শব্দ শুনতে পাই।

সে একলা হেঁটে যায়
বন-লতা তার স্পর্শ চায়,
বৃক্ষের পুস্প আজ মরতে
চায় খোঁপা জড়িয়ে ধরতে;
বসন্তের কোকিল গান গায়।
নূপুরের ছম-ছম শব্দ শুনতে পাই।

ছুটে গিয়ে উদার মনে
ডুবে যায় তার নীল নয়নে,
হরিণী যেন লুকায় লাজে
দুহাতে কাঁচের চুড়ি বাজে;
মলিন বদন দেখি পাতার ঝরোকায়।
নূপুরের ছম-ছম শব্দ শুনতে পাই।


রচনাকালঃ- ২৪/১০/২০১৮

মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৮

অপূর্ণ প্রেম


অবন্তী দাঁড়িয়ে থাকে
অপেক্ষা করে আমার,
মনে-মনে ভাবে এই হয়তো আসব আমি;
তার হাত ধরে নিয়ে যাব দূর অজানায়।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়
তারপর বিকেল মিশে যায় সন্ধ্যায়,
তবু আমি আসিনি সেদিন!

অবন্তীর মনে হাজারো প্রশ্ন জাগে-
কেন আমি আসিনি সেদিন?
কেন ফেলে রেখে গেছি তাকে?

আমার এক ঝঞ্ঝার জীবন,
প্রতিদিন সকালে শুরু হয় সংগ্রাম;
রাত হলে ডুবে যায় অনিশ্চয়তার শীতল আঁধারে;
আমার কষ্টের দিন-রাত যেন শেষ হয়না আর!

একদিন হটাৎ আলোর ঝলকানি নিয়ে-
আসে এক সম্ভাবনার আশা,
আমি ভাবি হয়তো পাব জ্যোৎস্নার দেখা
অবশেষে একটা দিন-ক্ষণ ঠিক করি।
কিন্তু সেদিন জানতে পারি
অবন্তীর জীবন চলে সংগ্রামের চাকায়!
অনেক দায়িত্ব তার
তার অনেক সুখ পাওনা জীবনের কাছে,
তখন শঙ্কায় দুলে ওঠে আমার মন!
যে সুখ অবন্তীর পাওনা-
সে পাওনা মেটাবার সাধ্য নেই আমার।

হটাৎ একদিন,
এক রাজ পুত্র আসে তার জীবনে
অনেক আনন্দের সারি-সারি উপহার নিয়ে!

এখন অবন্তী রাজ পুত্রের সঙ্গে
অনেক সুখে জীবন কাটায়,
আমিও আছি যেমন তেমন!
আমার জীবনে শুধু একটাই চাওয়া
সে যেন সুখে থাকে ভালো থাকে।


রচনাকালঃ- ২৩/১০/২০১৮

শুক্রবার, ৪ মে, ২০১৮

বিরহের স্মৃতি

মোর অন্তর আজ বিরহের দহনে
কাঁদি শুধু নীরব নিশীথে গোপনে,
উদ্বেগে মগ্ন নিত্য একাকী আনমনে
কুলায় ভাঙে বিহঙ্গের ঝাঁক।
স্মৃতিগুলো সব মুছে যাক!

নসিব কোনদিন বদলাবেনা জানি
সওগাত দিয়েছে সে চোখের পানি,
পিছন ফিরে তুমি দিওনা হাতছানি
এ ভাবেই সব পড়ে থাক।
স্মৃতিগুলো সব মুছে যাক!

সভ্যতার ইমারতে লেগেছে কলঙ্ক
চিত্তে তোমায় না-পাবার আতঙ্ক,
আপন শোকে দেখি নভ মৃগাঙ্ক
আঁধির প্রকোপে খায় ঘুরপাক।
স্মৃতিগুলো সব মুছে যাক!

অগতির অস্তিত্ব তোমার মনে
যদি বেদনা জাগায় বক্ষের মাঝখানে,
তবে ভুলে থেকো আমায় প্রতিক্ষণে
যেন না থাকে কোন ফাঁক।
স্মৃতিগুলো সব মুছে যাক!

বসন্তের কোকিল হয়ে শুনিয়েছি গান
চায়নি কখনো তো তার প্রতিদান,
তুমি করেছ মোর ভালবাসা প্রত্যাক্ষাণ
তবুও রয়েছি আজো নির্বাক।
স্মৃতিগুলো সব মুছে যাক!

প্রাণ কাঁদে বিষাদের গান গেয়ে
প্রতিক্ষিত আঁখি থাকে পথ চেয়ে,
চলি দিশাহারা তপবন বেয়ে
তবু তোমার অঙ্গনে শ্বেতাভ ছাক।
স্মৃতিগুলো সব মুছে যাক!

জমিনে ঝরে পুস্প দ্যুলকে বারিধারা
উত্তাল নদ আজও হয় দিশাহারা,
উদকের অভাবে বৃক্ষ যায় মারা
তেমনই মোদের আখ্যান পতন পাক।
স্মৃতিগুলো সব মুছে যাক!

বিদার ভুবনে তুমি ফুটিয়েছিলে ফুল
কেন করলে বলো এমন ভুল,
মিলবেনা কভু তটিনীর দুই কূল
তোমার প্রণয়ে হই অবাক।
স্মৃতিগুলো সব মুছে যাক!

অপরাধ করেছি ওগো মোর প্রিয়তমা
কেন এতো আশা রেখেছিলাম জমা,
বিদায় ক্ষণে যেন করেদিও ক্ষমা
লুপ্ত হয়েছে শিখীর ডাক।
স্মৃতিগুলো সব মুছে যাক!


রচনাকালঃ- ০৪/০৫/২০১৮