সার্চ করুন

রবিবার, ৯ জুলাই, ২০১৭

অত্যাচারী জমিদার- ২

রাগান্বিত হয়ে হুঙ্কারি হাঁক দিয়ে বলে
কোথায় নূরুল বাহির 'হ' তোর ঘর থাইকা!
আমায় ঘর থেকে টেনে মাটিতে ফেলে
নির্মম ভাবে মারতে লাগল চারজন লেঠেল।

যেটুকু সম্বল বলতে ছিল মোর ঘরে
তারা ছুড়ে ফেলে দিল সদনের আঙিনায়,
হাতে পায়ে ধরে কাকুতি-মিনতি করলাম
দয়া করুন আমার ওপর জমিদার বাবু!

মাটিকে যে প্রাণের চেয়ে বড় ভালোবাসি
ভিটেটুকু পিতা-মাতার রেখে যাওয়া স্মৃতি,
এই ছোট্ট কুটীর আমার শেষ আশ্রয়
এটুকু কেড়ে নিলে আর কি থাকবে সম্বল?

অনুনয়-বিনয় করে জমিদার বাবুকে বললাম
এভাবে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করবেন না আমাকে,
কি এমন অপরাধ করেছি যার শাস্তি দিচ্ছেন?
জমিদার ছল-কপটের জোরে জমিটুকু কেড়ে নিলো।

আঁখির জল মুছি আর পিছন ফিরে চাই
সাজানো স্বপ্ন যেন পুড়ে হলো ছারখার!
ক্ষেতটুকু দেখি আর মনে-মনে ভাবি
হে ঈশ্বর ন্যায় বিচার আমি কোথায় পেলাম?

তখন যেন আকাশ ফেটে পড়ল মাথায়
চিৎকার করে বলি শোনো-শোনো গ্রামবাসী!
তোমরা কি কেউ কিছুই দেখতে পাও না?
এই মিথ্যাবাদী নির্দয় জমিদারের অকত্ব অত্যাচার!

বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে ফেললাম
আহা আজ আমি যে বড় অসহায়!
কোথায় খুঁজে পাব একজন প্রতিবাদী মানুষ
যে এই অত্যাচারী জমিদারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে!

কোথায় খুঁজে পাব একজন ন্যায় নিষ্ঠাবান
যে বিচারকের আসনে বসে ন্যায় বিচার করবে,
কবে উদয় হবে এ ভুবনে সত্যের সূর্য
আজও আমি খুঁজে ফিরি সততার প্রতীক।


রচনাকালঃ- ০৮/১২/২০১৬

অত্যাচারী জমিদার- ১

এই বিষন্ন পৃথিবীতে বাঁচব কিসের আশায়
জীবনের সবকিছু কেড়ে নিলো অত্যাচারী দানব!
কাকে শোনাব আমার এত দুঃখের কথা
কাকে হৃদয় চিরে দেখাব প্রাণের ব্যাথা!

দয়া-মায়া হীন এই বেরঙিন ধরণীতে
আসলে কোথাও নেই সততার ছিটে-ফোঁটা!
ক্ষুধার্ত পেটে মাথায় চিন্তার বোঝা নিয়ে
একা হেঁটে চলেছি অজানা দিশাহীন পথে।

ভিঁটেমাটি বলতে ছিল এক বিঘা জমি
সকাল হলেই দুয়ারের সামনে বসে শুনতাম,
একঝাঁক পাখিদের কিচিমিচি সুমধুর কণ্ঠে গান
আর সবুজ বৃক্ষে মোড়া আমাদের ছোট্ট গ্রাম।

দেখতাম আউস ধান ক্ষেতের সোনালী শস্য
শুনতাম বসন্তের ককিলের মধুর শব্দে গান,
বর্ষার দিনে দেখতাম অরণ্যে ময়ুরের নাচ
সেসব দৃশ্য দেখে ভরে যেত মোর প্রাণ।

কি করে ভুলে যাব এখানে কাটানো সমস্ত স্মৃতি
কি করে ছেড়ে যাব আমার এই সুন্দর গ্রাম!
কি করে হারাব পিতা-মাতার শেষ উপহার
এটাই তো আমার মায়া-মমতা মাখা জন্মভূমি।

মাটির ছোট্ট কুটীরে সাজিয়ে ছিলাম কত স্বপ্ন
যত দিন বাঁচব থাকবে সবকিছু গোছানো,
একবিঘা জমিতে উঠত কতনা সোনার ফসল
এত সুখ যেন আমার কপালে আর সইল না।

আমাদের গ্রামে ছিল এক অত্যাচারী জমিদার
সে আসলে অহঙ্কারী আর অনেক প্রাচুর্যের দাবিদার,
অসহায় মানুষের জমি বাড়ি দখল নিয়ে
আত্মসাৎ করা'ই ছিল তার প্রধান কাজ।

ভিতু প্রজাগণ তার মাথায় পরাত স্বর্ণের তাজ
জমিদারের নজর পড়ল আমার কুটিরের ওপর,
দখল নেবার জন্যে পিশাচ করলো ডিগ্রি-জারি
চারজন লেঠেল নিয়ে আসলো আমার বাড়ি।


রচনাকালঃ- ০৫/১২/২০১৬

জন্মদিন

জন্মদিন
অরণ্য- (ভাবুক কবি)


শ্রাবণ বৃষ্টির শীতল সলিল
পুলকিত জোয়ার এলো অনাবিল,
পাপীদের ক্ষমতা কেড়ে নিতে
এলাম অপরাধ মুছে দিতে।
জমিনে নামে আঁধার কালো
দেখায় নব দিশার আলো,
বিদ্রোহীর আবির্ভাব ফুটে নলিন
ওগো আজ আমার জন্মদিন।

দেখি বিশ্বের বহু রূপ
রঙ্গ মঞ্চে সবাই থাকে চুপ,
তোপের মুখে জমে বারুদ
অশুভ জলদে কাঁপে অম্বুদ!
শকুনির দল দেয় হানা
মানব আবাস অতিষ্ঠের কারখানা,
দ্রোহের মাঝে হই বিলীন
ওগো আজ আমার জন্মদিন।

ছলনার শিকার কেন অসহায়
প্রতিবাদী মন শুধু কষ্ট পাই!
সরকারী দপ্তর নেয় ঘুষ
মুদ্রার অভাবে নগণ্য বেহুশ।
সততার ভিত সমীরে নড়ে
ধর্মস্থান ভাঙে দাঙ্গার ঝড়ে!
বিকৃত হস্ত কাটে বিপিণ
ওগো আজ আমার জন্মদিন।

অগ্রণীর মাঝে নেই আদল
প্রতিবার দেখি তাদের রথবদল,
বর্ধনাঙ্কের মত্ততায় করে হানাহানি
মিথ্যে অপবাদ হয় কানাকানি!
ভূপতির দল পুষে গুন্ডা
দেখায় যত দলবল পাণ্ডা,
প্রতিবাদী কলম হবেনা ক্ষিণ
ওগো আজ আমার জন্মদিন।


রচনাকালঃ- ১১/০৭/২০১৮

পাথর


আমি পাথর!

প্রকৃতির মত মুক্ত ছিল হৃদয়
হাসি আর অনন্দের মাঝে কাটত জীবন,
আকাশের চাঁদকে চেয়েছিলাম কাছে পেতে
বুঝিনি প্রণয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ছলনা।

তুমি এলে আমার জীবনে
দেখালে মায়াবী রূপের মহিমা,
কৌশলে ছিনিয়ে নিলে আবেগী অন্তর
খেলনা ভেবে খেলেছ ইচ্ছেমত!
আমি কি চেয়েছিলাম তোমার তরে প্রেম?
তুমি তীক্ষ্ণ প্রহার করে ভেঙ্গে দিলে সরল মন
বেঁচে থাকার আশা হয়েছে নিঃশেষ!

কেড়ে নিলে রাতের ঘুম
নিজ হাতে হত্যা করলে আমার স্বপ্ন,
তোমার দেওয়া বারংবার আঘাতে-আঘাতে
আজ আমি হয়েছি পাথর।

কথার শব্দ হারিয়ে ফেলে হয়েছি নির্বাক-
বুকের মাঝে অবশিষ্ট নেই কোন দয়া-মায়া;
তোমার আনন্দ আমার দুঃখ
এমনি করে আর ঠকাবে কতদিন?

তাই আর নয়;
আমি আর বন্দি হব না
তোমার ছল-চতুরী প্রেমের জালে;
মন ভোলানো রূপে আমার প্রতিজ্ঞা হবেনা ভঙ্গ।
আমি ছিন্ন করেছি মায়ার বাঁধন-
বসে আছি সেই দিনের আশায়,
তুমিও একদিন অন্য কাউকে ভালবাসবে
সে খেলবে অনুরূপ ভাবে তোমার মন নিয়ে
মিথ্যে দিয়ে জিতে নিবে বিশ্বাস;
কথার সমুদ্রে ভাসাবে তোমায়।
তারপর শুরু করবে ভালবাসার অভিনয়
অবশেষে এমনভাবে তোমায় কাঁদাবে,
যেমনভাবে আমার চোখের জল ঝরিয়েছ এতদিন।


রচনাকালঃ- ০৮/১০/২০১৬

বেদনা

র্নিমম প্রলয় কেড়ে নিলো সুখ আসলে আমি অস্তিত্বহীন
সব কিছু হারিয়ে ফেলে হয়েছি যাযাবরের মত ঠিকানাহীন,
পাইনি কোনদিন মাতা-পিতার স্নেহের পরশ মাখা আদর
শত দুঃখে তাদের শেষ উপহার দিয়েছি দুটি সাদা চাদর!
আমি অসহায় তাই সমাজের কাছে থেকে পেয়েছি অবহেলা
অফুরন্ত পথ অতিক্রম করেও শেষ হয় না কখনো বেলা,
বাঁচব না হয়ত বেশি দিন আর হৃদয়ের যন্ত্রণা উঠছে বেড়ে
অনন্ত ঘুমে বিলীন হয়ে চলে যাব একদিন ধরণী ছেড়ে!

সকলের দ্বারে-দ্বারে হাত বাড়িয়ে চেয়েছি একমুঠো ভাত
অর্থহীন বলে স্বার্থের অভাবে কেউ ধরেনি আমার হাত,
একটু আশ্রয়ের আশায় সবার কাছে কত ছুটে গিয়েছি
কুকুরের মত সর্বদা লাঞ্ছিত হয়ে শুধু কষ্ট উপহার পেয়েছি!
কুড়িয়ে খেয়েছি মানুষের ছুড়ে ফেলে দেওয়া নষ্ট খাবার
মনে কত আশা ছিল সকলের একটু ভালবাসা পাবার,
প্রতি রাতে ভাঙ্গা ঘরে ঘুমিয়ে থাকি ছেড়া পলেথিন পেড়ে
না ফেরার দেশে চিরতরে চলে যাব একদিন মেদিনী ছেড়ে!

নিরাশ হয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম বেঁচে থাকার শেষ আশা
তখন বসন্তের ফুল হয়ে ফুটে আসলো এ জীবনে ভালোবাসা,
আমার হাতটি ধরে শিখিয়েছিল সে জীবনে বাঁচার মানে
সমস্ত বেদনা মুছে দিয়েছিল তার তুলনাহীন প্রেমের দানে।
মেনে নিলোনা আমাদের সম্পর্ক এই সমাজ ও তার পরিবার
ছোট্ট ভাঙ্গা ঘরে অগুন জ্বালিয়ে করে দিলো সব ছারখার,
সেই উদার ভাবনাশীল প্রেম দানকারিনীকে নিলো ওরা কেড়ে
মৃত্যু যন্ত্রনা বাড়ছে প্রতিক্ষণে চলে যাব একদিন অবনী ছেড়ে!

বামুন হয়ে ধরতে চেয়েছিলাম ঐ আকাশের সুন্দর চাঁদ
ভুলে গেছিলাম আমি অসহায়- দরিদ্র তার প্রেমে হয়ে উন্মাদ,
প্রেমের মূল্য দিলোনা কেউ ছিলোনা আমার কোন অর্থ
হৃদয়ের মাঝে তাকে য্বত্নে বসিয়ে ভালোোবেসে ছিলাম নিঃস্বার্থ।
হারিয়ে ফেলেছি চিরতরে সেই করুণাময়ী প্রিয়ার মুখ
মুছে গেল এক মূহূর্তের মধ্যে উপহার পাওয়া কিছু সুখ,
আমার প্রাণ হরণ করতে ভয়ংকর মৃত্যু আসছে তেড়ে
চিরতরে বিদায় নিয়ে চলে যাব একদিন বসুধা ছেড়ে!


রচনাকালঃ- ২৫/১১/২০১৬

ক্ষুধা

এ দেশে ক্ষুধা লাগলেই নাকি অপরাধ!
আমাদের লাঞ্ছিত হতে হয় সর্বদা,
অসহায় নর-নরীর দুর্ভিক্ষ তোমাদের
সৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার ব্যাঘাত ঘটায়।
আমাদের আর্তনাদে তোমরা বিরক্ত হও!

হে পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত দেশের কর্মকর্তা-
তোমরা মিথ্যাবাদী!
তোমরা জালিম!

আমরা ভুখা পেটে থাকি
পাইনা ঠিকমত একমুঠো খাবার,
তোমরা বলো জনগণ বুদ্ধিহীন ক্ষিপ্ত!
আমাদের মাথার ঠিক নেই।
হ্যা আমরা পাগল বলেই-
তোমাদের মত দুর্নীতিবাজদের ভোট দিই,
আমরা উন্মত্ত বলেই-
আত্মসাত্কারি ধনৈশ্বযবিলাসী নেতার
হাতে তুলে দিই দেশের ভবিষ্যৎ।

মুখোশে আটা আছে তোমাদের বদন,
দেখতে পাও না করুণ দৃশ্য!
শুনতে পাও না আমাদের চীত্কার!

ক্ষুধার তাড়নায় হয়েছি উন্মাদ!
পশুর তরে খাবার ছিনিয়ে খায়
বলে তোমরা বলো লক্ষিছাড়া,
তোমাদের আঘাতে হই অধঃপতনের শিকার;
আমাদের শরীরে লাগে ঘুনপোকা-
আমরা বুঝিনা কোন রাজনীতির খেলা
বুঝিনা কোন ভবিষ্যৎ বাণীর মহিমা।

বিগত সত্তর বছর ধরে,
আমাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছ বহুবার!
এ দেশে শ্রেণী বৈষম্য দূর হবে।


রচনাকালঃ- ০৬/০৭/২০১৮

স্বপ্নের মৃত্যু

আমি আর ভালবাসব না স্নেহা,
আমি আর ভালবাসব না!

দুই বছর আগে,
তুমি এলে আমার মনের দ্বারে
বলেছিলে সারা জীবন পাশে থাকবে;
তবেকি সবই ছিলো ছলনা?
কেন তুমি এত নিষ্ঠুর!
আমার ঝুলিতে যেটুকু প্রেমের ধন ছিল
তার সবটুকুই তোমায় দিয়েছিলাম।
তবে আজ কেন বিরহের আগুনে ঠেলে দিয়ে
তুমি চলে গেলে অন্যের হাত ধরে!

আমি আর হাসব না স্নেহা,
আমি আর হাসব না!

বসন্তের পলাশ ফুল হয়ে ফুটেছিলে হৃদয়ের অঙ্গনে
শ্রাবণ বারিধারায় উপহার দিলে হাসি,
তোমায় প্রথম দেখার পর-
হৃদয়ের কোণে জেগেছিল প্রেম।
অথচো আজ,
প্রেমের শিকল ছিড়ে চলে গেলে।
তোমায় নিয়ে দেখেছি কত স্বপ্ন;
মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর ধারালো প্রেমের অস্ত্রের আঘাতে আমার হৃদয়কে করলে ক্ষুন্ন!

আমি আর ঘুমাব না স্নেহা,
আমি আর ঘুমাব না!

তোমার মনে আছে?
কলেজের ক্যাম্পাসে বসে করেছি গল্প
পুরনো সাইকেলে তোমায় নিয়ে ঘুরেছি,
সারাদিন এক সাথে সময় কাটিয়ে ফিরতাম ঘরে
বিকেল হলেই আমরা সবুজ প্রান্তরে-
বসে দেখতাম আকাশের গোধূলি।
জীবনের অনেকটা পথ অতিক্রম করে
আজ জানতে পারলাম সবি ছিল মিথ্যে!

আমি আর স্বপ্ন দেখব না স্নেহা,
আমি আর স্বপ্ন দেখব না!

তোমার মনে পড়ে?
যখন আমায় দেখতে ইচ্ছে করত,
তুমি সবুজ ঘাস মাড়িয়ে ছুটে আসতে
নিথর দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতে আমার দিকে।
 দুঃখ পেলে দুহাত দিয়ে মুছতে চোখের জল
তবেকি সবই ছলনা, সবই ছিল অভিনয়?
আজও ভেসে উঠে তোমার সঙ্গে কাটানো স্মৃতি।
বলো কেন,
নিজ হাতে হত্যা করলে আমার স্বপ্ন!


রচনাকালঃ- ২৯/০৬/২০১৮