সার্চ করুন

সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০১৭

চালাও অভিযান

হাতে হাত রেখে সবাই এগিয়ে চলো
অর্জন করো শক্তি,
দৃঢ় সংকল্পে তোমরা লড়াই করলে
খুঁজে পাবে মুক্তি!

আনো চাণক্যের নীতি আদিধীরার বলিদান
চন্দ্রগুপ্তের মতো শিকার,
অশোকের মতো সাহসী যোদ্ধা হয়ে
ছিনিয়ে নাও অধিকার!

তোমরা মুক্ত চির মুক্ত নও কারো কৃতদাস
ভেদাভেদে মানবেনা হার,
ধর্মের যাঁতাকলে পিষে মারা শয়তানদের
তোমরা করো মিসমার!

নেতাদের তরে গোলামী করতে
তোমরা আসোনি এই পৃথিবীতে,
দরিদ্রের সম্মুখে বাধা-বিপত্তি
ধনীদের ঘরে অঢেল সম্পত্যি;
সমাজের বুকে পীড়িত মানুষদের
আজ করতে হবে উদ্ধার।


রচনাকালঃ- ২২/১০/২০১৮

রবিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৭

নীল জ্যোৎস্না

জেগেছি ক্ষপায় নিদ্রাহীন নয়নে
চন্দ্রমার নীলে মিশেছে শতদল,
অতিক্রম করে সেই দুরূহ বর্ত্ম
ভেসেছি নীল সিন্ধুর মাঝে।

তোমার শীতল কিরণের স্পর্শে
হয়েছি যেন এক মাতাল ভ্রমর!
নিয়তির গড়া বন্ধ প্রাচীর ভেঙে
পার করেছি ওই উচু শৃঙ্গী।

তুফানি পারাবারে দেখেছি তোমায়
শুনেছি করুণ কণ্ঠে কান্নার সুর!
ছিলে তুমি সহস্র হায়ন বন্দি
আর এখন একফালি মুক্ত নিশ্বাস।

আমার চূর্ণ বিচূর্ণ চিত্তের গভীরে
বারে বারে দেখতে পাই তোমায়!
বিজন কুঞ্জের মাঝে ছিলে একাকী
বিধুর প্রভায় ভেজা অঙ্গ নিয়ে।

তুমি নীলাদ্র প্রাণের রক্তিম মাধবী
দাঁড়িয়ে আছো প্রাচীন কাল থেকে,
এখনও রক্তান্বেষী দানব আসে
প্রতি নিশিতে স্থৈয্র্যের বুক চিরে!

প্রলয়ের পথ ধরে দল বেঁধে
নির্মম ভাবে হত্যা করে যাই!
অনলে পুড়িয়ে দাহ করে অস্তিত্ব
তীক্ষ্ণ দাঁতে দংশায় গহনের লতা!

দিশাহীন অতীত এখনও ভাসে
তাদের লাল বর্ণের শোণিত মুখে!
অনেক দিন পর দেখেছি তোমায়
বিনীদ্র রজনীর জ্যোৎস্নার নীলে।

সময়ে সভ্যতার ইমারত ভাঙে
তবু তোমার শরীর মৃগাঙ্ক মাখে,
প্রাণ বলির রূধিরে স্নাত তুমি
তবু আছো একিরকম নীরব নিভৃত!



রচনাকালঃ- ৩০/০৭/২০১৭

শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৭

অনুভূতি

যখন আমি হারিয়ে যাব, বেদনার বৃষ্টি ঝরবে,
অস্পষ্ট হবে দৃষ্টি তোমার অশ্রু ঘিরে ধরবে-
বেদনার বৃষ্টি ঝরবে!
আমার ছবি সামনে রেখে
অধীর আগ্রহে যাবে দেখে,
চিত্তের সাগর করবে টলমল
দুনয়ন থেকে ঝরবে জল!
নীরবে রোদন করবে-
বেদনার বৃষ্টি ঝরবে!

আঁধার রাতে আমার স্মৃতি, চোখের সামনে ভাসবে,
সেই চেনা মুখটি দেখে নিথর হয়ে থাকবে-
চোখের সামনে ভাসবে!
মনে করবে আমি আছি
তোমার হৃদয়ের কাছাকাছি,
ঘুম ভাঙলে দেখবে যখন
পাশে নেই আমি তখন!
দুঃখে ভেঙে পড়বে-
বেদনার বৃষ্টি ঝরবে!

শূন্য মনে একলা বসে, হবে চিন্তায় মগ্ন,
লাল কাঁচের চুড়ি ভেঙে দুহাত করবে নগ্ন-
হবে চিন্তায় মগ্ন!
অস্থির অন্তর করবে আকুতি
জাগবে তখন কত অনুভূতি,
দাওনি প্রেম করেছ ছল
তখন পাবে তার প্রতিফল!
কম্পনে হৃৎপিণ্ড নড়বে-
বেদনার বৃষ্টি ঝরবে!

আবার বসন্তের আগমন হলে, দৃশ্য নেত্রে ফুটবে,
বিচলিত হবে মন তোমার গোরস্থানের দিকে ছুটবে-
দৃশ্য নেত্রে ফুটবে!
বাঁশপাতা ছড়ানো কবর খানি
লুটিয়ে পড়বে দিয়ে হাতছানি,
কাঁদবে তখন চিরতরে হারিয়ে
ডাকবে আমায় দুহাত বাড়িয়ে!
তিলে তিলে মরবে-
বেদনার বৃষ্টি ঝরবে!



রচনাকালঃ- ২৯/০৭/২০১৭

শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

পতিত কাঁদে

সাধারণ জনগণ যাপন করে আগাছা বস্তিতে
তাদের ললাটের ভাগ্যরেখা রয়ে গেল পতিত,
ক্ষণে ক্ষণে যেন মরে তীব্র ক্ষুধার জ্বালায়!
ধনীদের নিত্য দিন কাটে উচুতলায় স্ফুর্তির সঙ্গে।
থেকে গেল সদা অসহায়ের দুঃখের স্তূপ!
তাই তো অক্ষম হয়ে আছে বিকলাঙ্গ দূটি চরণ,
সমাজে ভোগবিলাসে জীবন কাটায় মালদার
তবুও মন থেকে মেনে নেয় না দরিদ্র ভিক্ষুকদের!
বহু কষ্টের মধ্যে গড়ে ওঠে গরিবের সংসার
কিন্তু তাদেরো যে দরকার তিল পরিমাণ সুখ,
বেনামী কেদারার লোভে মত্ত হয়ে ওঠে সবাই
তাই তো সমৃদ্ধরা সমাজের বুকে হয় দেবতা!
নিষ্ঠুর অনাচারে ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে দেশের প্রজা
ভুখের পীড়নে শহর নগরে ছড়াই নীরবতা!
দূষণের যুগে শোনা যাই পতিতদের কান্না!
সুখ হারা কামনায় বাঁচে উমদার গোলাম হয়ে।
ঘৃণা লাজ মুছে ফেলে, যে যখন বসে ঐ গদিতে
তখন জঠরাগ্নির জ্বালায় কাতর হয় রাজপথ!
কেড়ে নেয় অসহায় পতিতদের মৌলিক অধিকার
চারিধারে শুরু হয় হরতাল-দাঙ্গা বোমাবাজি!
দেশের সংবিধান ভঙ্গ হয় অক্ষের কাঠগড়ায়
প্রতি ক্ষণে পতিতদের উপর করে অবমাননা!
ফন্দিপূর্ণ ছলনায় নয়নে পরেছে কালো কাঁচ
তাই তো আইন স্তব্ধ দেখেও দ্যাখে না কিছুই।
ছল-কপট করে ধরে এনে, নির্দোষ কে দেয় সাজা!
এমনি করেই কানুন সর্বহারাদের করে বিদ্রুপ,
ইনামের লোভে অন্ধ সেজে থাকে বিধানের আঁখি
সারণীর তলাই আরাধনা চলে ঘুষ পূজার।


রচনাকালঃ- ২৮/০৭/২০১৭

বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০১৭

সুকান্তের প্রতি

আমার অনুপ্রেরণার প্রথম ধাপ এবং আমার প্রিয় কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, এই কবিতাটি আমি তাঁকে উৎসর্গ করলাম।
--------------------------------------


দুঃখীনি জননীর কোলে জন্ম
নিয়ে ভুবনের বুকে তুমি এলে,
পরাধীন দেশে বিদ্রোহী কন্ঠে
মানব সমাজের জাগরণ ঘটালে।
অসীম জ্ঞান শিক্ষার অধিকারী
তুমি ছিলে গনমানুষের কবি,
তুলে ধরেছো অসহায়-জর্জর
মানুষের সুখ দুঃখের ছবি।
তোমার লেখা সব কবিতা
পেয়েছে দেখ কত উচ্চস্থান,
যাবতীয় শোষণ বঞ্চনার বিপক্ষে
তোমার ছিল দৃঢ় অবস্থান।
সে যুগের কিশোর কবি হয়ে
এসেছিলে তুমি ওগো সুকান্ত,
আমার হৃদয়ে বন্দী রেখেছি
তোমার প্রতি ভালবাসা অফুরন্ত।
তোমার কাছে থেকে পেয়েছি
অনেক জ্ঞান আর অনুপ্রেরণা,
পেয়েছি আমি কিশোর বয়সে
কবিতা লেখার এমন ভাবনা।
জীবনের দুরহ পথের সঙ্গী
বিরহ থাকে অটুট মিত্র!
শত রূপে শতবার আমার
অন্তরে এঁকেছি তোমার চিত্র।
কবিতা লিখেছো ছন্দের তালে
যেন নিশি পূর্ণিমার সুধাকর,
দেখিয়েছো মানব জাতিকে সঠিক
পথের দিশা হয়ে দিবাকর।
তোমার কবিতা বাংলার বুকে
সাহসী করে প্রতিটি স্তরে,
চলব আমি আগামী দিনে
কঠিন পথ অবলম্বন করে।
সবুজ মর্তের মৃত্তিকা চিরে
তারুণ্যের শক্তি দিয়ে লড়বো!
আগমন ঘটবে শুভ দিনের
আগামীতে সুন্দর বাংলা গড়বো।
দেখবে জাতি কলমের ক্ষমতা
তুলব কবিতায় প্রতিবাদী সুর!
থাকবে না আর দুঃখ কোনই
শ্রেণী ভেদাভেদ করবো দূর!
হব আমি বাংলার বীর সৈনিক
লড়াকু ভুমিকায় হব উন্মাদ!
রেহাই পাবে না দানবের দল
জালিমের বিরুদ্ধে করবো প্রতিবাদ!
ধরেছি যখন হাতে কলম
দুঃখীদের স্বার্থে কবিতা লিখব,
করেছি যখন প্রাণেে প্রতিজ্ঞা
মানব চেতনার জাগরণ ঘটাব।
বিরহ জীবনের আট প্রহরে
দেখতে পাই তোমার উপস্থিতি!
নিঃসঙ্গ রাতে নয়নে ভেসে
প্রতিক্ষণে যেন থাকো যথারীতি।
আজও এই দেশের মাটিতে
ক্ষুধিত দিন সাম্রাজ্য গড়ে!
মানব প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত হয়
সেই ভয়াবহ মৃত্যুর কবলে!
খড়ের তৈরি ছোট্ট কুটীরে
এখনও করি আমি বসবাস,
অঙ্গের প্রতিটি শিরায় শিরায়
দ্রুত ছড়াই বিষাক্ত দীর্ঘশ্বাস!
এই অবহেলিত সমাজের মাঝে
আমি হলাম দুঃখের কবি!
প্রত্যহ রাতে দুঃস্বপ্ন দেখি
ভয়ংকর মৃত্যুর সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি!


রচনাকালঃ- ২৬/০৭/২০১৭

শুক্রবার, ২১ জুলাই, ২০১৭

অম্বিকা

সেই কবে শিশু কালে হাসতে দেখেছি মা-কে
শত দুঃখ পীড়নের কথা তিনি বুঝতে দেননি!
কখনও খেলতে গিয়ে কোন আঘাত পেলে
দেখেছি ওই হৃদয়ে কত মমতাময়ী আকুলতা।
আড়াল থেকে লুকিয়ে চুপি চুপি চেয়ে দেখেছি
বিছানায় শুয়ে আঁচল দিয়ে মুছতে চোখের জল!
দেখেছি তাঁর হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা
বেদনার আড়ালে সহস্র মমতার পরশ।
সন্তানের প্রতি জননীর ভালবাসা বুঝি এমনই
ধরণী লিখে দিলেও তুলনা হবে না এমন মাতার,
হে করুণাময়ী, হে আমার প্রাণের প্রিয় অম্বিকা-
কী করে শোধ করি আপনার মাতৃত্বের ঋণ।


রচনাকালঃ- ২০/০৭/২০১৭

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০১৭

আক্রোশ

মানব সভ্যতার চিত্র জ্বলে ওঠে সন্ত্রস বাদের অনলে
অর্থ প্রাচুর্যের লোভে হারিয়ে ফেলে নিজেদের বিবেক,
বর্ধনাঙ্কের প্রমাদে মানুষ মানুষের হয়ে ওঠে দ্বিষৎ
অথচ জাহানে কেউই বেঁচে থাকবে না নিত্যতা।
জানিনা তবুও কেন হানাহানির খেলায় মাতে
কৃষ্ণাভ নক্তে বিবশ নর-নারীর শোণিতে করে স্নান!
অথচ ধারণ করে সমাজের বুকে নিষ্পাপ শিশুর প্রতিরূপ
অনৈতিক কার্য ঘটায় রিষের বেশে অথবা আক্রোশে!
ধবল নির্মোক বাবুদের সাথে সড়যন্ত্রের জাল বুনে
তারা একদিন দিয়েছে যাদের প্রতি মিথ্যে গ্লানি!
তাঁরাই প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন করেছে দেশ
স্বাধীনতা দিয়েছে আমাদের গর্বের সাথে বাঁচার।
এখনও গৃহ বন্দীর মধ্যে সড়যন্ত্র হয় প্রাবল্যের লোভে
অনুবলের দাপটে কত মানুষের উর্ধ্বে করে নির্যাতন!
তাদের বিরুদ্ধে কখনও যদি কেউ করে প্রতিবাদ
নিতে হয় প্রবঁচকের ফাঁদে পড়ে মিথ্যে কদুক্তি।
অবশেষে সেই নিরোধক মানব করে নিপাত বরণ
এভাবেই খেলে তারা বিকৃত অক্ষের ক্রীড়া!
অগণিত শবের উপর অধমাঙ্গ রেখে এগিয়ে চলে
রূধির স্রোতে ভেসে চলে কূটনীতির কল্পী তরী!
এ চিত্র দেখে মনে হয় যেন চির অভিশপ্ত দানব
যারা অবিরত নির্দ্বিধায় নিরবলম্ব মানুষকে করে খুন!
হনন করে নর নারী শিশু বৃদ্ধ সহ বিশ্ব মানবতার
অথচ বিশ্ব বিবেক নির্বাক হয়ে দেখে শুধু রঙ্গ!
দেশের বুকে মানুষের দিন কাটে পঁচত্বের বিলম্বে
চাহনির অগোচরে ঘুরে বেড়াই কত হিংস্র পশু!
তবুও তারা আইনের চোখে জঙ্গী নয় সন্ত্রাসী নয়
অহা সবাই বলে তারা নাকি সততার প্রতীক!


রচনাকালঃ-১৮/০৭/২০১৭