সার্চ করুন

রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৭

ক্লান্ত

পড়ে আছে কালের তমসায় ঝরা প্রসূন,
পিরিতের প্রতীক্ষায় কেটে যাই কত হেমন্ত!
তবুও ছুটি একাকীর সাথে খেলার প্রমাদে,
জগদ্বাসীর বক্ষে ক্লান্ত হয়ে আসে দেহযষ্টি।
জানি না কেন অস্ত গেছে চরিতের ভাস্কর!
নবোদ্ভিন্ন মেজাজ হারিয়ে যাই শয়নের দেশে।

গগনপ্রান্তের নভশ্চর দেখে কাটে কতো যামিনী,
খুঁজে ফিরি এক চপল ললনার ঠিকানা।
তাকে কোন দিন নিজের করে পাইনি!
শুধু দেখি অসীম সৌন্দর্যে গড়া অহমিকা।
এমন লুকোচুরি ক্রীড়ায় উন্মাদ হয় রজনী,
চির শূন্যতার বেড়াজালে আবদ্ধ দঙ্কট মার্গ!

ওগো মোর প্রণয়ীনী আমি যে বড্ড পরিশ্রান্ত,
আর কতকাল এই নিশি কাটবে নিঃসঙ্গ?
পাষাণের অচল জোমে ভিজে যাই সর্বাঙ্গ!
আকালের ঝড়ে অশান্ত হয়ে ওঠে হৃদাকাশ!
প্রেয়সী দাওনা তোমার কোমল পাণির স্পর্শ,
তারই আভা পেলে চিরতরে হব নিস্তব্ধ।



রচনাকালঃ- ১৭/০৮/২০১৭

সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ইচ্ছে ছিল

ইচ্ছে ছিল হাতে পতাকা ধরে,
দল বেঁধে সিপাহী বিদ্রোহ করার।

ইচ্ছে ছিল হাতে পতাকা ধরে,
মৃত্তিকার বুক চিরে বেরিয়ে আসার।

ইচ্ছে ছিল হাতে পতাকা ধরে,
বীরের মত পলাশীর যুদ্ধ করার।

ইচ্ছে ছিল হাতে পতাকা ধরে,
ক্রীতদাসের শিকল উপড়ে ফেলার।

ইচ্ছে ছিল হাতে পতাকা ধরে,
সহস্র প্রাণ বলীর প্রতিশোধ নেবার।

ইচ্ছে ছিল হাতে পতাকা ধরে,
যুদ্ধে দেশের জন্য প্রাণ দেবার।

ইচ্ছে ছিল হাতে পতাকা ধরে,
নজরুলের দ্রোহে আগুন জ্বালাবার।

ইচ্ছে ছিল হাতে পতাকা ধরে,
সুকান্তের মত জীবন সংগ্রাম করার।

ইচ্ছে ছিল হাতে পতাকা ধরে,
সবুজ ক্ষেতে সোনর ফসল ফলাবার।

ইচ্ছে ছিল হাতে পতাকা ধরে,
অহিংসা দিয়ে দেশ স্বাধীন করার।

ইচ্ছে ছিল হাতে পতাকা ধরে,
প্রভাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার।

ইচ্ছে ছিল হাতে পতাকা ধরে,
সীমান্তে দাঁড়িয়ে দেশ রক্ষা করার।



রচনাকালঃ- ১৪/০৮/২০১৭

শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

নিয়তি

আমি ত্রিভুবনের অধিপতি ঈশ্বরের গড়া অদৃষ্ট,
ভূলোক দ্যুলোক গোলকের সাথে করি খেলা।
সবার ললাটে নিজ হস্তে লিখি ভাগ্যলিপি,
আসলে আমার নেই কোন গোত্রের চিহ্ন।
অপ্রকট খেয়াপথে চলি মানবতার সূত্র ধরে,
আমি আজরাঈলের মত থাকি চির দুর্দম!

ভুলেও কখনো করি না কারো সাথে মিত্রতা,
আমি দুর্বিনীতের বিকারকে হই সদা উত্তীর্ণ।
অচলার বক্ষে মহা-প্রলয় ঘটিয়ে করি নিকুচি!
আমার সূক্ষ্ম প্রহারেও হয় না কোন স্তনন।
ন্যায়ের কুহরে আহ্বান করে গড়ি অস্তিত্ব,
বৈভবের হুকুম পেলেই হতে পারি নৃশংস!

প্রত্যহ এসে তোমাদের সাথে করি আলিঙ্গন,
আমি ক্ষৌণীর মৃত্তিকায় এক নিপট অভিশাপ!
সকলের দুয়ারে প্রদর্শন করি বিলুপ্ত চিত্র,
নিমেষে করে দিতে পারি উর্বীকে উন্মথন!
জীবনের পথে চলতে চিনে নিও আমায়,
যেভাবে তোমরা চিনতে পারো অভ্রের ঋক্ষ।

রঙিন অচলার মানব যেন বড়ই স্বার্থপর,
কেউ এসে সাজায় সর্বত্র সুখের নিবাস।
কেউ এসে জ্বালিয়ে ছারখার করে যাই!
আমি তাদেরই সাথে মিলনে হই সমবেত।
আমার হুঙ্কারে কেঁপে ওঠে ধরণীর ভূতল!
চিনে নিও আমিই তোমাদের সেই নিয়তি।



রচনাকালঃ- ১২/০৮/২০১৭

সোমবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৭

কোথায় আজ সেই ভগবান

কোথায় গেল আজ সেই ভগবান
তোমরা দেখেছ কি কখনো তাঁকে?
অকালে চলে যায় সহস্র প্রাণ
এ দেশ পড়েছে কালো পাঁকে।

কোথায় গেল আজ শিব জটাধারী
কোথায় সেই মহান শ্রীরামের বাণ?
কবে আসবে হয়ে ন্যায়ের কাণ্ডারী
দেশের জমিনে করবে শান্তি প্রদান।

ভারত জুড়ে বাড়ছে সাধু সন্ন্যাসী
তবু মরে কেন অসহায় কৃষক!
ভগবানে হয় যদি তারা বিশ্বাসী
তবে কেন হিন্দু-মুসলিম পৃথক!

ধূর্ত নেতা পরেছে গিরিধারী বস্ত্র
কখনো প্রতিবাদ করেনা-তো কেউ,
লড়াই লেগেছে গীতা-কোরান শাস্ত্র
কবে ফিরবে ভারতে শান্তির ঢেউ।

পাতাল ভেদ করে উঠেছে দানব
আজ কোথায় সেই চিন্ময়ী মহাকালী?
অবতার নিয়ে কবে আসবে মহামানব
কবে দিবে নিষ্প্রাণ প্রতিমা অসুর বলি।

ক্ষমতার দাপটে যারা গণহত্যা করে
তারাই আজ হয়েছে আইনের রক্ষক!
অসহায় জনতা পড়ে খাকির খপ্পরে
অসুরের মতো যেন সব ভক্ষক!

কোথায় আজ সেই দুর্গতি নাশিনী
মন্দিরে বসে আছে কেন নীরব?
কবে ঘুচবে পৃথিবীতে আঁধার যামিনী
চলছে নৈরাজ্যের দহনে সন্ত্রাসীর কলরব!

অর্থের লোভে করছে রাজনীতিতে প্রবেশ
লুটেপুটে খেয়ে তাদের বাড়ছে মেদ,
তিলে-তিলে করছে দেশকে নিঃশেষ
প্রতিপদে উর্ধগামী প্রজাদের খেদ।

কোথায় সেই তান্ত্রিক নেড়া-নেড়ি
এসে ঘোচাবে দেশের বুকে অপকর্ম,
কবে ছিড়বে রাজনীতির শিকল বেড়ি
আজ ধর্মের নামে চলছে অধর্ম!


রচনাকালঃ- ০১/১১/২০১৮

রবিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৭

ষোল বাই বত্রিশ

জীবন হলো আমার রসকলি
বেনারসী মিঠা পানের মত,
আহা যৌবনের উত্তালে এখন
দিবানিশি হাবুডুবু খায় কত।
স্কুল জীবন পার করেই
তারপর গেলাম বড় কলেজে,
অবুঝ মনে নানারকম উল্টো
বুদ্ধি আসে আউট নলেজে।
পড়াশোনা তো নষ্ট হলো
আরাম আয়েশ গেল লাটে,
প্রেমের কামনা জাগলো মনে
কোমল হৃদয় দুঃখে ফাটে।
কলেজের সেই ক্যাম্পাসে বসে
অবাধে কত চলতো আড্ডাবাজি,
পড়াশোনা তো ঢপের চপ
তাই শুধু মারতাম ফাঁকিবাজি।
কোন কিছুর অভাব ছিল না
করেছি নারীর সাথে প্রেম,
সফল হতে পারিনি আজও
শূন্য রয়ে গেল অন্তরের ফ্রেম।
কলেজ জীবন শেষ করে
ভাগ্যে নেমে এলো দুরাশা,
সংসার চালানোর জন্যে তখন
শুরু করলাম নতুন ব্যাবসা।
বত্রিশ বছর বয়স হলো
ছিলাম অনেক পারিবারিক চাপে,
আমার রূপের গ্লেজ নষ্ট
তেমনি হচ্ছিল ধাপে-ধাপে।
বন্ধুরা দেখলে বলতো আমায়
কবে করবে তুমি বিয়ে,
সুখের সংসার বাঁধবে কবে
সঙ্গে অর্ধাঙ্গীনি কে নিয়ে।
এদিক সেদিক খুঁজতাম কত
বিয়ে করবার জন্য নারী,
বিয়ের সম্বন্ধ ভাঙ্গলো যখন
দুটি নয়ন থেকে ঝরলো বারি।
ঘটক মশাই আসলেন বাড়ি
বিয়ের সমন্ধ পাকা করে,
এইবার বিয়ে না হলে
বোধহয় আমি যাব মরে।
মেয়ে দেখতে গেলাম আমরা
সকল বন্ধু-বান্ধব মিলে,
সফল হবে জীবন আমার
সে স্বামী রূপে মেনে নিলে।
যখন সামনে আসলো আহা
কী সুন্দর তার রূপের জাদু,
ষোল বয়সী কিশোরী যেন
হবে অসীম সাধের বধু।
দুজন দুজনকে পছন্দ করে
দিলাম শোনার আংটি পরিয়ে,
ঘোর অন্ধকার কাটলো এবার
পাকা হলো আমার বিয়ে।
ষোল বাই বত্রিশের ফরমোলা
তখন পূর্ণ হলো অবশেষে,
বিয়ে করতে গেলাম আমি
সেজে জামাই বাবুর বেশে।
সোনার টুকরো স্ত্রী আমার
নাম হলো তার মউ,
লোকে বলে আমায় দেখে
বুড়ো খোকার কচি বউ।


রচনাকালঃ- ০৮/০৮/২০১৭

বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৭

ঘুম নেই

ঘুম নেই—ঘুম নেই
নিগ্রো কৃষ্ণাভ মগ্ন রাতে,
শূন্য রাজপথে অবিরত হাঁটি
অগ্নির মশাল জ্বেলে হাতে।
মানুষের লহুতে স্নান করে
তোরা করিস সদা পরিহাস,
চির বিষাক্ত ভুবনের বুকে
আমি থাকবো না আর কৃতদাস!

ঘুম নেই—ঘুম নেই
রোদনের সুর উঠেছে রাতে,
শোকে কাতর হয়েছে প্রজা
অসহায় নর-নারীর নিপাতে!
নির্মম জুলুমে জর্জরিত জনতা
তাই হয়ে উঠেছি অস্থির,
চুরমার করবো তোদের সত্তা
নত হবে না উন্নত শির!

ঘুম নেই—ঘুম নেই
অনলে কলেবর পুড়ছে রাতে,
দেশকে তোদের নড়ী থেকে
মুক্ত করবো আগামীর প্রভাতে।
বিশ্বের অন্তরীক্ষ ভেদ করে
হয়েছি রুদ্রের মত নৃশংস!
ভয়ংকর তীব্র প্রলয় এনে
তোদের করবো এবার ধ্বংস!

ঘুম নেই—ঘুম নেই
খড়্গের ধ্বনি শুনি রাতে,
অসু গেল কত মানুষের
তোদের প্রখর অস্ত্রের আঘাতে!
দেশে ধর্মান্তরের জাল বুনে
মন্দির মসজিদে করিস বিভেদ,
সড়যন্ত্রের ফাঁদে লাগে দাঙ্গা
বেশুমার প্রজার করিস শিরশ্ছেদ!

ঘুম নেই—ঘুম নেই
বিদ্রোহী উন্মাদ নিঝুম রাতে,
নীল বিষধর ভুজগ হয়ে
তোদের দংশাব তীক্ষ্ণ দাঁতে!
প্রতিশোধ নেব প্রাণ বলির
হয়েছি শূন্য দ্যুলকের ঝঞ্ঝা,
করিনাকো আর তোদের ভয়
ধরেছি দেহান্তের সাথে পাঞ্জা!

ঘুম নেই—ঘুম নেই
লাল রূধির মাখা রাতে,
তচনচ করবো অক্ষের তখ্ত
জীবন যাই যাক তাতে!
যতক্ষণ থাকবে চিত্তে মনোবল
যুদ্ধ করেও হব না ক্লান্ত!
আসুক না যতই বাঁধা বিপত্তি
তোদের নিধনেই হব শান্ত।



রচনাকালঃ- ০৭/০৮/২০১৭

বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০১৭

মেঘ বালিকা

ব্যস্ত জনবহুল শহরের কোলাহল ছেড়ে,
শূন্য মনে আমি যেতে চায় দূর-বহুদূর।

যেখানে থাকবে শুধু মেঘ বালিকার অস্তিত্ব,
শান্ত প্রকৃতির মাঝে থাকবে অটুট নীরবতা।

কলাতিপাত হলেই চলে যাব তার কাছে,
মনের গভীরে জমেছে কিছু অতৃপ্ত কামনা।

বৃষ্টি খেয়ার পাল উড়িয়ে সিক্ত করবে আমায়,
প্রান্তর ভেজা কান্নার সুরে হারিয়ে যাব।

তার হদয়ে লুকিয়ে আছে সহস্র অভিমান,
দুটি নয়ন থেকে ঝরে শ্রাবণ নদীর বৃষ্টি।

দেখেছি চক্রবালের শেষ খাঁড়িতে সেই গৃহ,
পাব যেদিন শূন্যে নতুন করে তার দেখা।

সেদিন অথই প্রেমে নিষিক্ত অঙ্গ হবে পুলকিত,
শীতল বর্ষণে ধুয়ে মুছে যাবে চিত্তের পীড়া।

সফলতার চূড়ায় পৌঁছবে অসম্পূর্ণ প্রেম,
হিমেল পরশে সৃষ্টির মাঝে যাব হারিয়ে।

সেই কবে থেকে তার কাছে চেয়েছি যেতে,
নিঃসঙ্গ জীবনে মেঘ বালিকার বড্ড প্রয়োজন।


রচনাকালঃ- ০৬/০৮/২০১৭