সার্চ করুন

সোমবার, ১০ জুন, ২০১৯

ডাইরির পাতা


কখনও ভাবিনি
তোমার সঙ্গে মাঝ পথে এভাবে দেখা হয়ে যাবে,
হয়তো ভেবেছিলে আমি তোমায় চিনতে পারিনি
তুমি সেই রমণী যাকে প্রতি রাতে স্বপ্নে দেখি‌।
ভাবতেই পারিনি; সত্যি বলছি-
তুমি আমার কল্পনার থেকেও অনেক সুন্দর!

কি সুন্দর করে সেদিন বলেছিলে
আচ্ছা আপনি সেই কবি তাই না?
কেন বলেছিলে সেটা আমি জানতাম।
সেদিন বসে কফি খেতে-খেতে
ওই চোখে দেখেছি অতভূত মায়া!
যেন আমার সামনে ভাসছে একটি নিস্পাপ মুখ।
মায়াবী চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝেছিলাম;
তোমার চোখ অন্য কারো ছবি আঁকেনা
ওই মনের দুয়ারে যে কড়া নাড়ে সেটা হলাম আমি।

আজ চদ্দই ফেব্রয়ারি
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস;
হ্যাপি ভ্যালেনটাইন্স-ডে তরুণিমা;
আই মিস ইউ!

আমি হলাম সেই ঘুড়ি
যে উড়তে উড়তে বৃক্ষের ডালে আটকে যায়!
তাকে কেউ ছাড়ায় না; বৃষ্টিতে ভিজে;
রোদে পুড়ে তবু পাতার ফাঁকে আটকে থাকে।
তুমি কখনো মরুভূমির বুকে পথিক দেখেছ?
তৃষ্ণার তাড়নায় সে চারপাশে দেখে শুধু জল,
অবশেষে জলের কাছে গেলে আর কিছুই মিলেনা!

অনেক মিস করছিলে আমাকে তাই না?
থাকতে না পেরে ছুটে এসেছ আমার খোঁজে!
আমি জানতাম তুমি আসব;
হয়তো তখন আমি আর থাকব না!
না তুমি দেরি করোনি, আমার হাতেই সময় ছিলনা।
জানো এখন আফসোস হচ্ছে
কয়েকটা দিন যদি তোমার সাথে কাটাতে পারতাম!
আমি এমন বলছি বলে অবাক হচ্ছো?
সত্যি বলছি তোমাকে কখনো দূরে সরাতে চাইনি,
তুমি আমার হাজার রাতের স্বপ্ন!
কিন্তু কি করব বল; মায়া বাড়াতে চাইনি-যে!
হ্যাঁ তরুণিমা আমি সেই মানুষদের মধ্যে একজন
যে জানতো তার মৃত্যুর দিনক্ষণ!
আমার ক্যানসার ছিল
জানতাম আর বেশি দিন বাঁচব না,
এ কথা অনেকবার তোমায় চেয়েছি বলতে
কিন্তু বিশ্বাস কর কোথায় যেন আটকে যেতাম-
বারংবার ওই ঝুলে থাকা ঘুড়িটার মত।
হ্যাঁ তরুণিমা আজ ওই ঘুড়িটাকে কে যেন খুলে দিয়েছে!

আজ এই অসময়ে
অনেক দূরে চলে গেছি তোমাকে ছেড়ে,
তোমাকে দেখার পর আমার যে কি ইচ্ছে করতো
তোমাকে ভালোবাসতে! তোমাকে স্পর্শ করতে!
কিন্তু ওই যে অসুখ, তাই আমি সদা দূরে থেকেছি।
তোমাকে না বলে যাওয়াটা অপরাধ মনে হয়েছিল
তাই ডাইরির পাতায় লিখে গেলাম;
এখন আমি সবার থেকে অনেক দূরে!
তবে এতটুকু জেনে রেখ-
আমি যেখানেই থাকিনা কেন;
আই মিস ইউ!


রচনাকালঃ- ১০/০৬/২০১৯

রবিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৯

অবোধ জাতি


মুসলিম সমাজে উদিত হয়
মুখোশধারী যত ভন্ড পীর,
করেনাকো তারা আল্লাহকে ভয়
অর্থের লোভে মন অস্থির।

লঙ্ঘন করে বিশ্বনবীর বাণী
চোখে-মুখে ছোপ লালসার,
অভিনয়ে ফেলে নয়ন পানি
খুন করে অজ্ঞানীর ভরসার!

অবুঝকে বারংবার দেখায় স্বপ্ন
তাদের ভক্তিতেই মিলবে জান্নাত,
সত্য কভু হয় না নগ্ন
দোয়া করেই পাতে দুহাত।

কবরে অবোধ সিজদায় রত
নির্দ্বিধায় চাপিয়ে দেয় চাদর!
মুমিনের ঈমান ক্ষত-বিক্ষত
ভক্ত নারীকে করে আদর।

জ্বলে কত ধূপকাঠি মোমবাতি
মানত মানে মোরগ খাসি,
অন্ধ বিশ্বাসে মগ্ন জাতি
পীরের চোপায় ফোটে হাসি।

সঠিক তথ্যে লাগে দ্বন্দ্ব
পাপাচারে লিপ্ত পীর বাবা!
প্রত্যহ ব্যবসা চলেনা মন্দ
বুদ্ধিহীনের বুকে মারে থাবা।

মুসলিম কুলকে করে বিভ্রান্ত
তারা সত্য করেনা স্বীকার,
আঁধার প্রলয় তোলে দুর্দান্ত
অবোধ পাই না গুনাহে নিস্তার।

দেখি অনেকেই আছে এমন
নিজেকে দাবি করে খোদা!
জানিনা আবার তারা কেমন
গতরে মাখে নরকের কাদা।


রচনাকালঃ- ২১/০৪/২০১৮

বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৯

প্রথম দেখা


এসো প্রিয় আরো কাছে থেকনা দূরে,
ফুটেছে ফুল কৃষ্ণচুড়া গাছে দেখ ফিরে,
থেকনা আর দূরে!

এসো আরো কাছে, লজ্জায় নত কোরোনা শির!
তোমার আগমনের ছোঁয়া পেয়ে বাতাস হল অস্থির।
আমি এসেছি ভালোবাসার আশায়
বুঝে নাও ব্যাকুল চোখের ভাষায়,
শূন্য মনের গভীরে ঘুনে পোকা খায় কুরে।
ওগো চিরন্তনী আমার!
কাছে এসে হাতটি ধর, থেকনা আর দূরে।

আজ জেগেছে তোমার মনে প্রথম প্রেমের অনুভূতি,
চেয়ে দেখ জ্যৈষ্ঠের মেঘে ঢাকা হাসে প্রকৃতি,
পাখির ডাকে থমকে যায় বন-বাদাড়
আবেগী হৃদয়ে প্রেম করে দাও উজাড়!
শিউরে ওঠে আমের মুকুল
জল টলমল নদীর দুইকূল।

গরবিনি! চোখে চোখ রেখে একটুখানি মুচকি হেসে
পরিয়ে দাও প্রেমের টিকা আমায় ভালোবেসে!
প্রিয়! আজ প্রথম দেখে তোমায়
ওগো পূর্ণ হল শূন্য সময়,
পরাব গলায় শিউলির মালা ভাগীরথীর তীরে।
ওগো সুবাসিনী আমার!
বাড়িয়েছি দুহাত-কাছে এসো, থেকনা আর দূরে।


রচনাকালঃ- ১৭/০৪/২০১৯

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৯

অভাগার কান্না

আসাম রাজ্যে গত ০৯/০৪/২০১৯ একটি মুসলিম মানবের ওপর অকত্ব অত্যাচার চালানো হয়! ভেঙে দেওয়া হয় তার হোটেল, তাকে মেরে রক্তাক্ত করে বল পুর্বক শূকরের কাঁচা মাংস খাওয়ানো হয়! যাতে তার ইমান নষ্ট হয়ে যায়, এমন করুণ দৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সত্য ঘটনা অবলম্বনে কবিতাটি রচিত হয়েছে।
..........................................................


পান্থাবাস খুলি স্বপ্ন নিয়ে
আসবে সংসারে সুখ-শান্তি,
দিনভর রত খাদ্য দিয়ে
নিশির আঁধারে নামে ক্লান্তি।

সূর্যদয়ের পুর্বে ভাঙে ঘুম
নেই বৃত্তির কোন নিস্তার,
সুস্বাদু ভোজ্যে লাগে ধুম
উন্মুক্ত করি হোটেলের দ্বার।

হরেক সবজি গো-মাংস
থাকে মাছ মুরগি খাসি,
রান্না আমার জীবনের অংশ
সবার সুরতে ফোটাই হাসি।

উনুনে জ্বলে ভাতের হাড়ি
দোকানে বহু খোদ্দের আসে,
তেলের কড়ায়ে খুন্তি নাড়ি
খানা খেতে পথচারী ভালোবাসে।

আসে পৃথক ধর্মের মানব
পুলকে খায় হস্ত চেটে,
চক্রান্তে থাকে ভয়ানক দানব
লাথি মারে বিবশের পেটে!

হটাত দেখি এ-কী দুর্গতি
ছুটে আসে যুবকের দল,
হবে বুঝি করুণ পরিণতি
দেখায় ওরা কত বাহুবল।

মুখোশে আটা ওদের বদন
হাতেপায়ে ধরি করিনিতো ত্রুটি,
তবু শোনেনা কোন বারণ
যেন অগ্নিময় ত্রিনেত্রের ভ্রূকুটি!

ভেঙে করে দেয় চুরমার
দেহ শোণিতে হয় লাল!
প্রাণ ভিক্ষা দাও একবার
খিচে নেয় গতরের খাল!

দুহাতে গলা টিপে ধরে
নিয়ে আসে শূকরের মাংস,
চোপা ফেড়ে দেয় পুরে
যাতে হয় ইমান ধ্বংশ!

কেউ আসেনি তো এগিয়ে
করেনি সেদিন কেন প্রতিবাদ,
জ্ঞানের অভাবে সভ্যতা পিছিয়ে
মানবের অন্তরে জন্মেছে খাদ।

অন্ধ সাম্প্রদায়ীকতার কবলে পড়ে
তিলে তিলে প্রতিক্ষণে মরি!
করাঘাতে ওঠে হৃদয় নড়ে
তবু নিয়তির হাত ধরি।

নোংরা রাজনীতি আর কতকাল?
তোমাদের করি যদি বিশ্বাস,
তবু বুনবে ষড়যন্ত্রের জাল
দূষিত পবনে রুদ্ধ নিঃশ্বাস।


রচনাকালঃ- ১১/০৪/২০১৯

শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৯

দুর্ভিক্ষ


মফস্বলে নেমে আসে দুর্ভিক্ষের ছায়া!
ক্ষুধার জ্বালায় চারিদিকে হাহাকার,
শিশু-নারীর আঁখি যেন শোকাহত
রোজগার নেই; বেড়েছে বেকারত্ব।

গ্রাম উঠে গেল শহরে,
ধানের গোলা, ঘর পড়ে রইলো শূন্য।
মাঠে ফসল বুনে না চাষী
চিহ্নহীন আলয়ে নামে নিস্প্রদীপ অন্ধকার,
আগাছায় ভরে গেছে আঙিনা
সেই আগের মত দেখা মিলেনা রাখালের,
বিকেল হলে মেঠো পথে আসেনা ধেনু
তাঁতি বুনেনাকো তাঁত
কেউ আসে না জল নিতে পুকুর ঘাটে।

বুনো ঘাসে ঢেকেছে পল্লীর রাস্তা,
সূর্য অস্ত যায় -
সন্ধ্যায় ঠাকুর ঘরে বাজে না শাঁখ!
কেউ ভাঙে না ধান; পিষে না গম;
ঘোরায় না তেলের ঘানি।
লোহার তালা ঝুলে কুমোরের দুয়ারে
যেন অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ দোকানপাট,
যেখানে একদিন শোনা যেত হাতুড়ির প্রহার
সেও সর্বস্ব বিকিয়ে চলে গিয়েছে শহরে।
শরতের পর নামে শীত
তবু রাহার ধারে জ্বলেনাকো শিখা,
কোথায় হারিয়ে গেল মোড়লদের চুলোচুলি
কিশোররা ওড়ায় না ঘুড়ি;
গভীর রাতে -
ডাকে না কুকুর পথিকের কদমের শব্দে।

ঐ দূর প্রান্তরে সবুজ ক্ষিতিজ হাত নেড়ে ডাকে,
খোয়াবের করাঘাতে ব্যথিত হয়ে
প্রতীক্ষার প্রহর গুনে সোনালি ধান!
ডাক শুনি শহর নগরের পথে পথে,
শ্মশান আর গোরস্থানের মত -
জমে ওঠে মৃতপ্রায় জনস্রোতের ভিড়।

প্রতিজ্ঞাবদ্ধ চিত্তে নয়নের শোকাশ্রু মুছে
তারা ভাবতে থাকে -
দেহাতের প্রতিটা গৃহে ফিরবে সুদিন,
তাই বেজে ওঠে শহর নগরের মার্গে পদশব্দ।
আশাবাদী মন নিয়ে তারা ভাবতে থাকে -
এবার বুঝি দূর হবে বেকারত্ব, ঘুঁচবে দুর্ভিক্ষ!
আসমানে ওঠে স্নিগ্ধ শশী
শুনি নদীর জলের শব্দ; পতগের গান;
চেয়ে থাকে সবাই মুগ্ধ নেত্রে গগন পানে,
হয়ত প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে
হয়ত উঠবে নব মিহির।


রচনাকালঃ- ০৪/০৪/২০১৯

বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৯

বঙ্গ - (দ্বিতীয় পর্ব)


শীর্ষে সদা ভেসে বেড়ায়
কালো কালো জলদের ভেলা,
দ্যুলকে এসে বসতে থাকে
ফোটা ফোটা বৃষ্টির মেলা।
বেলা গড়াতেই জমিনের বুকে
যখন নামে বৈশাখী প্রলয়,
বন বাদাড়ের পশু পাখি
খুঁজে ফিরে নীড়ে আশ্রয়।
এই দ্বীপের চারি পাশে
খেলা করে তৃণ পারাবার,
হরিণীর মত সমীর এসে
নিত্য কদম চুমে তার।
দোয়েল ফিঙে টুনটুনির সুরে
পথের পথিক দিশা হারায়,
শরত্ কালের শিশির ঝরে
অপরূপ সুন্দর শ্যামল ধারায়।
ভিন্ন প্রজাতির পশু পাখি
জল খেতে আসে তীরে,
কুসুমের জঙ্গলে রঙিন হয়ে
বালুর চর হাসে ধীরে।
এই গ্রামের উর্বর মাটি
কত শস্য করে দান,
শীতের আগমন হলে রায়ের
ফুল মধুকরকে জানায় আহ্বান।
সেখানে উড়ে আসে সহস্র
রঙিন কীটপতঙ্গ আর প্রজাপতি,
ধান ক্ষেতে ছুটে আসে
দল বেধে বুনো হাতি।
উজান তটিনীর স্বচ্ছ্ব নীরে
পড়ে স্নিগ্ধ চাঁদের কিরণ,
দিবাকর প্রত্যহ দুহাত বাড়িয়ে
তিমিরকে করে নেয় বরণ।
কত পথ উচু গিরির
কোল ঘেঁষে চলে যায়,
কত শহর কত নগর
ব্যস্ততার ভিড়ে পড়ে রয়।


রচনাকালঃ- ২৬/০৩/২০১৯

বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০১৯

বঙ্গ - (প্রথম পর্ব)


গ্রামের ওই মেঠো পথে
সবুজ ক্ষেতের নেই শেষ,
শিতল পবনে দুলে কার
ঢেউ খেলানো মাথার কেশ।
সর্ষের জমিতে উড়ে আসে
সারি বেধে প্রজাপতির ঝাঁক,
বসন্তের আগমনে শোনা যায়
কোকিল পাখির সুমধুর ডাক।
দল বেধে বক এসে
সেখানে গাঁথে বনফুলের মালা,
গ্রীষ্ম কালে জোনাকি পোকা
এঁদোয় জ্বালে মানিক আলা।
তারি মাঝে গজিয়ে ওঠে
নব সবুজ ধানের চারা,
মাতৃকার আঁচলের ছায়া পেয়ে
যেন ধন্য সতেজ ধারা।
কনক ভূমিতে গজায় ফসল
চাষীদের আনন্দে দিন কাটে,
হরেক রকম শস্য ভান্ডার
বসে এই গ্রামের হাটে।
শিশু শাল সেগুন বৃক্ষে
ঘেরা অরণ্য দেয় ছায়া,
আম জাম কাঠাল ফল
ফুলে প্রাণে জাগে মায়া।
আলো ছায়ার লহর খেলে
যায় কাঁচা পাতার ফাঁকে,
সূর্যের জ্যোতি লুকোচুরি করে
আকাশ ছাওয়া মেঘের বাঁকে।
গাঙের তটে গ্রীষ্ম কালে
জেগে ওঠে বালুর চর,
সন্ধ্যা নামলে ফিরে আসে
সুবাস ভরা কুঞ্জে খেচর।
হরিত্ গহনের কচি পত্র
দুলে হিমেল হাওয়ার সুরে,
শৃঙ্গী ঘেঁষে ঝর্ণা নামে
ঐ দেখা যায় দূরে।


রচনাকালঃ- ২৫/০৩/২০১৯